হোমিওপ্যাথির কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই… কথাটা কতটা সত্যি, এর স্বপক্ষে কী যুক্তি কাজ করছে?

Loading...

বিজ্ঞানী হ্যানিম্যান ১৭৯৬ সালে Homeopathy নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। রোগীকে অল্প ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে তোলাই Homeopathy-র মূলমন্ত্র৷ Homeopath-র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই কথাটা কতটা সত্যি। জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক।

এই ধারণা আসলেই একটি মিথ। কিভাবে, তা বলি… হোমিওপ্যাথিতে যত ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তাদের প্রতিটি সুস্থ মানবদেহে বারংবার পরীক্ষিত। প্রচুর মানুষের উপর লাগাতার পরীক্ষা করার দরুণ ওষুধের এমন প্রায় কোনও বৈশিষ্ট্যই আর অজানা থাকে না যার প্রয়োগে ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই ওষুধগুলি এমনভাবে কৃত্রিম উপসর্গ তৈরি করতে সক্ষম, যা প্রাকৃতিক রোগের উপসর্গের অনুরূপ, অথচ অধিকতর শক্তিশালী ও কিছু সময়ের পরে আপনিই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কথা, এদের উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারার বৈশিষ্ট্য অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক মনোনয়ন করতে পারেন ও তার শক্তিমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

Loading...


অর্থাৎ, এই ওষুধের নির্ধারণ ও প্রয়োগের প্রক্রিয়া একটি কন্ট্রোলড সিস্টেম, যার কারণে এই সমস্ত ওষুধ নিরাপদে ব্যবহার করা যায় সদ্যোজাত থেকে শুরু করে মৃত্যুপথযাত্রী পর্যন্ত সব রোগীর ক্ষেত্রে। তবে এই কন্ট্রোলড সিস্টেম কিছু শর্তের অধীনে কর্মক্ষম। যেমন…

১. জীবনীশক্তির নিজস্ব প্রাণশক্তি (Vitality), তার ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা। যে রোগী ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েছেন, প্রাণপ্রদীপ নিভুনিভু হয়ে এসেছে, তাকে উচ্চ শক্তিমাত্রা দেওয়া যায় না। তাতে ক্ষতিই ত্বরান্বিত হবে।

Loading...

২. যে রোগের দরুণ দেহে Irreversible Pathological Changes হয়ে গেছে, সেইসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথির প্রয়োগে নিরাময়ের সম্ভাবনা অতি সীমিত। ভুল শক্তিমাত্রার ওষুধ এই Pathological Phenomenon-কে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যেমন, ক্যানসার বা সেরিব্রাল স্ট্রোকের Late Stage-এ Gross Pathological Changes চলে এলে নিরাময়ের সম্ভাবনা কমতে থাকে, ওষুধের প্রয়োগে সামান্যতম ভুল হলে জটিলতা বাড়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে।

৩. অস্ত্রোপচার লাগবেই মানে Surgical Management লাগবেই, এমন কেসে হোমিওপ্যাথির দ্বারা নিরাময় হয় না বলাই সঠিক। যেমন, Acute Appendicitis, Cholelithiasis (পিত্তাশয়ে পাথরী), Coronaey Artery Blockage, গর্ভাবস্থায় শিশু Breech অবস্থানে Engaged হয়ে গেছে, ইত্যাদি। এসব অবস্থায় হোমিওপ্যাথির ক্ষমতা সীমাবদ্ধ (Scope Is limited)।

Loading...

৪. Idiosyncratic রোগী অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীল রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। যেমন, কেউ কেউ ফুলের গন্ধ সহ্য করতে পারেন না, অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারোর চিনাবাদামে বা গমজাত খাবারে বা চারচিনিতে অ্যালার্জি আছে যা অন্য মানুষের ক্ষেত্রে কোনোই প্রতিক্রিয়া করে না। এগুলির চিকিৎসা গভীর জ্ঞান ও ধৈর্য্য দাবী করে।

৫. সর্বোপরি, প্রতিটি মানুষের নিজস্ব Susceptibility (প্রবণতা) ও Miasmatic character (ধাত) থাকে যা তাকে ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’ (Individualized) করেছে প্রকৃত অর্থেই। হোমিওপ্যাথিতে সঠিক ওষুধের নির্বাচন ও তার শক্তিমাত্রার নির্ধারণ এর সাথে সরাসরি জড়িত। এর নিরিখে, একটি আরোগ্য প্রদানকারী ওষুধও ভুলভাবে প্রয়োগের দরুণ পরিস্থিতি অহেতুক জটিল করে তুলতে পারে। যদিও তা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরিমার্জনাযোগ্য।

Loading...

সোজা কথায়, না জেনে না বুঝে আনাড়ি যদি কেবল মেটেরিয়া মেডিকা পড়ে হোমিওপ্যাথি করতে যায়, বা একজনের পেটখারাপে অমুক ওষুধে উপকার হয়েছে দেখে আরেকজন সেই ওষুধ পেটখারাপে খেয়ে বসে, তাতে আদৌ কতটুকু উপকার হবে সেই উত্তরে খটকা আছে। এমন কাজ না করাই বাঞ্ছনীয়।

আর হ্যাঁ… ভুল ওষুধ দীর্ঘদিন ধরে লাগাতার ব্যবহার করতে থাকলে শরীরে কৃত্রিম রোগলক্ষণ দেখা দেয়। সেই কৃত্রিম অসুখ যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিরাময়যোগ্য, তবুও বাঞ্ছনীয় নয়। এককথায়, অভিজ্ঞ ও দক্ষ হোমিওপ্যাথের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এইসব ওষুধ নিজে নিজে ব্যবহার করে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

Loading...
Loading...
Share

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *