সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

Loading...

 কু-সন্তান যদি বা হয়, কু-মাতা কখনও নয়! বাংলার এই প্রবাদটির সম্পূর্ণ উলটো ঘটনার সাক্ষী থাকল নদিয়ার হরিণঘাটা এলাকা। ৩৩ দিনের কন্যা সন্তানকে বঁটি দিয়ে গলা কেটে খুন করল মা। এমনই অভিযোগ উঠেছে হরিণঘাটা থানা এলাকার বাসিন্দা জয়ন্তী ভৌমিকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকালে এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ জানায়, বঁটির কোপে ৩৩ দিনের শিশুটির ধর থেকে মাথা আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

রানাঘাট জেলার পুলিশ সুুপার সায়ক দাস ‘এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক’কে বলেন, ‘শিশুর মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

Loading...

শিশুটিকে হত্যা করার অভিযোগে তার মা জয়ন্তী ভৌমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তিনি কেন একাজ করলেন তা স্পষ্ট নয়। কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। অভিযুক্তের মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে হরিণঘাটা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিণঘাটা থানার মহাদেবপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জয়ন্তী ভৌমিকের বছর নয়েক আগে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরে বিয়ে হয়। বহু অপেক্ষার পর সম্প্রতি তাঁর সন্তান হয়। মাস তিনেক আগে সন্তান প্রসবের জন্যই বাপেরবাড়িতে এসেছিলেন জয়ন্তী। তারপর এদিন সকালে বাড়ির সকলের অনুপস্থিতির সুযোগে তিনি আনাজ কাটার বঁটি দিয়ে শিশুটির গলা কেটে খুন করেন বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, এদিন সকাল থেকেই জয়ন্তীদেবীর পরিবারের লোকজন শিশুটিকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এরপর বিকালে দেখা যায়, বাড়ির শৌচালয়ের পাশে শিশুটির গলা কাটা রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। আর মাথাটি পড়ে রয়েছে শৌচালয়ের ভিতর। তারপর হরিণঘাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মস্তক-ছিন্ন দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। জয়ন্তীদেবী কেন শিশুটিকে হত্যা করলেন তা স্পষ্ট নয়। তবে একে কন্যাসন্তান, তার উপর রোগগ্রস্ত হওয়ার কারণেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও পুলিশ জয়ন্তীদেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অসংলগ্ন কথা বলেন। পুলিশের অনুমান, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হতে পারেন! জয়ন্তী মানসিক ভারসাম্যহীন বলে তাঁর পরিবারেরও দাবি। তবে শিশুটিকে খুনের অভিযোগে পুলিশ জয়ন্তী ভৌমিককে আটক করেছে। তাঁর মানসিক সুস্থতার বিষয়ে জানতে শ্বশুরবাড়ির লোকেদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Loading...
Loading...
Share

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *