‘ভুজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’

Loading...

১৫ অগাস্টের প্রাক্কালে মুক্তি পেল আরেক দেশাত্মবোধ ধারা ছবি, অজয় দেবগণ অভিনীত ‘ভুজ: দ্য প্রাইড অব ইন্ডিয়া’। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভুজের মাধাপারের বাসিন্দা ৩০০ গুজরাটি মহিলার আত্মত্যাগের গল্প বলছে ভুজ। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াডন লিডার বিজয় কার্নিক (Ajay Devgn), রিয়েল লাইফ সুপার হিরোর অদম্য জীবনীশক্তি ও দেশের প্রতি একজন সৈনিকের অতুলনীয় ভালোবাসার আখ্যান ভুজ। পাক বোমার আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়া এয়ারবেসকে গ্রামের ৩০০ মহিলার সাহায্যে একার হাতে ফের তৈরি করে ভারতের জিত নিশ্চিত করেছিলেন বিজয় কার্নিক। এক ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের এই অনতিদীর্ঘ ছবি সেই সৈনিকেরই বীরগাঁথা।

Bhuj: The Pride of India হিট না মিস, সে প্রসঙ্গে আসতে গেলে বলতে হয় বর্ডার থেকে উরি, এমনকী সাম্প্রতিক শেরশাহ, বলিউডে তৈরি হওয়া দেশাত্মবোধক ছবিগুলোর মতোই দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অজয় দেবগণের ভুজ। ছবির পরিচালনা ও চিত্রনাট্য দুইয়ের দায়িত্বেই ছিলেন Abhishek Dudhaiya। দেশপ্রেমকে তোল্লাই দিতে গিয়ে লজিক গড়াগড়ি খেল মাটিতে। চিত্রনাট্যে ইমোশনের পাক রান্নায় গরম মশলার অতিরিক্ত ব্যবহারের মতোই রান্নাকে তেঁতো করে ফেলেছে। ছবি যুদ্ধের গল্প দিয়ে শুরু হলেও আচমকা গতির সঙ্গে সঙ্গে খানিক খেইও হারিয়ে ফেলে। মূল গল্পের সুতো চরিত্রদের ব্যাকগ্রাউণ্ডের ভিত্তি তৈরিতেই হারিয়ে যায় ঝাঁঝ। দেশপ্রেমের রসে সিক্ত ভারিক্কি ডায়লগ। কখনও সখনও শিহরণ জাগালেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একঘেয়ে। তবে মন ভরাবে যুদ্ধের দৃশ্যায়ন। লাগাতার বোমা বৃষ্টি পাক বিমানের হামলা। ধাক্কা দেয় সার সার জ্বলন্ত চিতায় হাজার হাজার সৈনিকের দেহের অন্তেষ্টি। কলের জলে মুখ ধুতে গিয়ে জলের বদলে রক্ত বেরিয়ে আসার দৃশ্যও। প্রথম ভাগের খামতি মিটিয়েছে এ ছবির দ্বিতীয় পর্ব। যুদ্ধের গন্ধে ম-ম করা থ্রিলার উপহার পান দর্শকেরা। VFX মারকাটারি না হলেও দেখতে মন্দ লাগে না।

Loading...

অজয় দেবগণের অভিনয় নিয়ে বাড়তি কিছু বলা বাহুল্য। দেবগণ ট্রেডমার্ক দৃশ্য এ সিনেমাতেও ছিল। বহুদিন বাদে এ সিনেমায় দেখা গেল সোনাক্ষী সিনহাকে। এক কোলে দুধের শিশু অপরদিকে দেশ মাতৃকার প্রতি দায়িত্ব। ‘গাঁও কী ছোঁড়ি’র ভূমিকায় আবারও নজর কাড়লেন সোনাক্ষী। তবে আলাদা করে বলতে হয় নোরা ফতেহির কথা। লাস্যময়ী নোরার নাচে মুগ্ধ দর্শকেরা এ সিনেমায় দেখতে পাবেন একদম নোরার অন্যরূপ। তবে নাচের সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ে নিজের জায়গা পাকা করতে হলে যদিও দিল্লি এখনও দূর। সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে নতুন করে কিছুই বলার নয়। তাঁর চরিত্রের চরিত্রায়ণে সেরা বাছাই সঞ্জু বাবা। ফ্যামিলিম্যানের পর এই ছবিতেও মন্ত্রমুগ্ধকর পারফর্মমেন্স শরদ কেলকরের।

স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশভক্তিতে ভরপুর এই ছবি দর্শকদের উপহার বলিউডের। কার্গিল থেকে উরি স্ট্রাইক নিয়ে বলিউড এর আগে ছবি তৈরি করলেও মুক্তিযুদ্ধে ভুজের অবদান নিয়ে বায়ুসেনার বীরগাথা এই প্রথম। তাই স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বাকি খামতি ভুলে শুধু গল্পে মন দিলে এই ছবি অবশ্যই দর্শকদের কাছে ওয়ান টাইম গুড ওয়াচ।

Loading...
Loading...
Share

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *