দখল নিলেও আফগানিস্তানের জাতীয় সম্পদ অধরা তালিবানের, কেন?

Loading...

আফগানিস্তানের ক্ষমতার রাশ তালিবানের হাতে। কিন্তু অর্থ ভান্ডার এবং সম্পদের দখল নিতে এখনই তাঁদের হাতে আসেনি। জানা গিয়েছে, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য এখনও বেগ পেতে হবে কট্টরপন্থীদের। সূত্রের খবর, বর্তমানে আফগান সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে ৯.৫ থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। গত সপ্তাহেই এই হিসেব প্রকাশ্যে এসেছিল। তবে বেশিরভাগ সম্পদই এই মুহূর্তে দেশে নেই। তা জানিয়েছিলেন DAB গভর্নর আজমল আহমদি। ঘানির পাশাপাশি আহমদিও কাবুল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। তবে গত সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, ‘DAB রিজার্ভে প্রায় ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে সব টাকা আমাদের হাতে রয়েছে। বেশিরভাগ সম্পদ নিরাপদ জায়গায় রয়েছে। হিসাবের মধ্যে তরল সম্পদ এবং সোনাকেও ধরা হয়েছে’। তাঁর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বেশিরভাগ সম্পদ আগে থেকেই আফগানিস্তানের বাইরে সরিয়ে রাখা হয়েছিলেন। তালিবানের নাগালের অনেকটা বাইরে। আফগানিস্তানের মোট সম্পদের সিকিভাগ রয়েছে ওই দেশে। যা মূলত নগদ আকারেই রয়েছে।

আফগানিস্তানের মোট সম্পত্তি কী কী?
আহমদির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেডারাল বন্ডে রয়েছে ৭ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। US Bill ও Bond এর আকারে রয়েছে ৩.১ বিলিয়ন ডলার। WB Ramp Asset রয়েছে ২.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের। ১.২ বিলিয়ন ডলারের সোনা এবং ০.৩ বিলিয়ন নগদ রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। এছাড়া ১.৩ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ০.৭ বিলিয়ন ডলার অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছিল।

Loading...

কেন সরানো হয়েছিল টাকা?

গভর্নর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, আফগানিস্তানের উপর বিপর্যয় আসতে চলেছে আঁচ করে আগেই সমস্ত সম্পত্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। ফলে এই মুহূর্তে রাজকোষ প্রায় শূন্য। অল্প অল্প করে সমস্ত টাকা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। আসলে আফগানিস্তানকে অর্থ সাহায্য করত মিত্র দেশগুলি। যার মধ্যে ভারত ও আমেরিকা রয়েছে। অল্প অল্প খাতে টাকা ঢুকত আফগানিস্তানে। ওই টাকার উপরেই নির্ভর করত আফগানিস্তানের অর্থনীতি। তবে তালিবানের উত্থানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমেরিকা সহ বেশিরভাগ দেশই আফগানিস্তানকে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেয় বলেই খবর।

Loading...

গত রবিবার তালিবান কাবুলের দখল নেওয়ার পরেই জো বাইডেন প্রশাসন আফগান সরকারের আমেরিকায় থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। আমেরিকার ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট এল ইয়েলেন ওই সিদ্ধান্ত নেন। ফলত বিলিয়ন ডলার থাকা সত্ত্বেও, তা কোনওভাবেই তালিবানের হাতে আসবে না।

সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দেখে ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (IMF) ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফান্ড ট্রান্সফার ব্লক করে দিয়েছে। আহমদি টুইট করে বলেছিলেন, ‘তালিবান এখনও সারাবিশ্বে জঙ্গি সংগঠন বলেই পরিচিত। তাঁদের হাতে যাতে অর্থ না পৌঁছয়, সেই কারণেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তালিবান দখল নিয়েও আফগানিস্তানের মোট সম্পত্তির ০.১-০.২ শতাংশ ব্যবহার করতে হবে। তার বেশি নয়’।

Loading...
Loading...
Share

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *